ঐতিহাসিক বর্ণনা ও তথ্য
১. ওহী নাযিলের স্থান:
এই পাহাড়ের গুরুত্ব অপরিসীম কারণ এর চূড়ায় অবস্থিত হেরা গুহায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নবুওয়াত লাভের আগে দীর্ঘ সময় নিভৃতে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। এই পাহাড়েই জিবরাঈল (আঃ) প্রথম ওহী নিয়ে আগমন করেছিলেন এবং সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নাযিল হয়েছিল।
২. নাম ও অবস্থান:
'জাবাল আল-নূর' শব্দের অর্থ হলো 'নূরের পাহাড়' বা 'আলোর পাহাড়'। এখান থেকেই ইসলামের দাওয়াতের নূর বা আলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে এর এই নামকরণ। এটি মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ৪-৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
৩. পাহাড়ের বৈশিষ্ট্য:
ছবিতে আপনি যে বিশাল পাহাড়টি দেখতে পাচ্ছেন, এর উচ্চতা প্রায় ৬৪২ মিটার। এর চূড়ায় পৌঁছাতে হলে বেশ খাড়া পথ পাড়ি দিতে হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য কিন্তু আধ্যাত্মিক তৃপ্তিতে ভরপুর। গুহাটি পাহাড়ের একদম উঁচুতে অবস্থিত, যেখান থেকে কাবা শরীফ দেখা যায়।
৪. দর্শনার্থীদের আকর্ষণ:
প্রতি বছর হজ্জ ও ওমরাহ পালনকারী লক্ষ লক্ষ মুসলমান এই পাহাড়টি দেখার জন্য ভিড় করেন। যদিও পাহাড়ের ওপর ওঠা হজ্জের কোনো আনুষ্ঠানিক অংশ নয়, তবুও নবীজির (সা.) স্মৃতি বিজড়িত এই স্থানটি দেখার প্রতি সবার এক গভীর আবেগ কাজ করে।